Categories general

বাংলাদেশের পাইকারি মার্কেট এর ব্যবসা কিভাবে করবেন

বাংলাদেশে পাইকারি (Wholesale) এবং আরত (Brokerage or Wholesale Market) ব্যবসার ধরন ও পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে, যা নির্ভর করে পণ্য, বাজার এবং ব্যবসার ধরনে। এখানে পাইকারি কেনাবেচার সাধারণ কিছু ধাপ তুলে ধরা হলো—

১. পাইকারি বাজার ও আরতের ধারণা:

  • পাইকারি বাজার: সরাসরি উৎপাদনকারী বা আমদানিকারকদের কাছ থেকে পণ্য কিনে খুচরা বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়।
  • আরত: এটি মূলত একটি মধ্যস্থতাকারী ব্যবসা যেখানে পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়। আরতদাররা সাধারণত কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করেন।

২. পাইকারি বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহের ধাপ

(ক) পণ্য সংগ্রহের উৎস

১. স্থানীয় উৎপাদক: কৃষিপণ্য, কাপড়, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি সরাসরি উৎপাদকের কাছ থেকে কেনা যায়।
২. আমদানিকারক: ইলেকট্রনিক্স, কসমেটিকস, পোশাক ইত্যাদির ক্ষেত্রে চীন, ভারত, দুবাই ইত্যাদি দেশ থেকে আমদানিকারকদের মাধ্যমে কেনা হয়।
3. ফ্যাক্টরি/কারখানা: গার্মেন্টস, জুতা, প্লাস্টিক সামগ্রী ইত্যাদি সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হয়।
4. পাইকারি হাট ও বাজার: চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, ঢাকার শ্যামবাজার, কেরানীগঞ্জ, গুলিস্তান, নীলক্ষেত, বগুড়ার মহাস্থানগড় ইত্যাদি বড় পাইকারি বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করা যায়।

(খ) পাইকারি কেনাকাটার কৌশল

  1. পরিমাণ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ: অধিক পরিমাণে নিলে দাম কম হয়।
  2. চুক্তিভিত্তিক অর্ডার: নিয়মিত বা বড় অর্ডার হলে বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়।
  3. উধার/ক্রেডিট সুবিধা: পুরনো ব্যবসায়ীদের জন্য ৭-৩০ দিনের মধ্যে পেমেন্টের সুযোগ থাকে।

৩. পাইকারি বিক্রির পদ্ধতি

(ক) খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি

  • দোকানদার বা অনলাইন বিক্রেতাদের সরবরাহ করা হয়।
  • কিছু ব্যবসায়ী অর্ডার নিয়ে ডেলিভারি দেয়, কেউ কেউ সরাসরি দোকান থেকে বিক্রি করে।

(খ) বড় ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ

  • সুপার শপ, শপিং মল, চেইন দোকান, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের জন্য সরবরাহ করা হয়।

(গ) কমিশন ভিত্তিক বিক্রি (আরত ব্যবস্থাপনা)

  • ব্যবসায়ী নিজে না বিক্রি করে আরতদার বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিক্রি করতে পারে।
  • আরতদাররা কমিশনের ভিত্তিতে পণ্য বিক্রি করে দেয় (সাধারণত ২-৫%)।

৪. পাইকারি ব্যবসায় লাভ বাড়ানোর কিছু টিপস

  1. বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগ গড়ে তোলা (সরবরাহকারী ও ক্রেতার সঙ্গে)।
  2. পরিমাণ অনুযায়ী ডিসকাউন্ট ও অফার প্রদান
  3. অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করা (ফেসবুক, ই-কমার্স, পাইকারি অ্যাপ ইত্যাদি)।
  4. গুদাম ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করা

About The Author

More From Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *